1. হারিয়ে না গেলে পাওয়া সম্ভব নয়।
2. আকাশ কেবল হৃদয় দিয়েই ছোঁয়া যায়।
3. প্রদীপগুলো আলাদা কিন্তু আলো একই।
4. যা তোমাকে পরিশুদ্ধ করে, সেটিই সঠিক পথা
5. শুধু তৃষ্ণার্ত পানি খুঁজে না পানিও তৃষ্ণার্তকে খোঁজে।
6. বৃক্ষের মতো হও, আর মরা পাতাগুলো ঝরে পড়তে দাও।
7. ঘষা খেতে যদি ভয় পাও, তাহলে চকচক করবে কীভাবে?
8. তুমি এ ব্রহ্মাণ্ডে(পৃথিবীতে) গুপ্তধনের, কিন্তু প্রকৃত গুপ্তধনতো তুমি নিজেই।
9. তোমার চালাকি বিক্রি করে মুগ্ধতা ক্রয় করে এনো লাভবান হবে।
10. প্রতিটা আত্মাই সোনা হয়ে যায় যখন প্রিয়তমার স্পর্শ পায়।
11. আপন মনকে শান্ত করো, দেখবে আত্মা নিজেই কথা বলছে।
12. সুরের মাধ্যমেই অন্তরের লুকায়িত রহস্যগুলো প্রকাশিত হয়।
13. যে কখনো বাড়ি ছাড়েনি, তার কাছ থেকে যাত্রার উপদেশ নিও না।
14. যে সৌন্দর্য তুমি আমার মাঝে দেখতে পাও, তা তোমারি প্রতিচ্ছবি।
15. পীরের নিকট হইতে মুখ ফিরিওনা, সেজদা কর নৈকট্য অর্জন কর।
16. গলে যাওয়া বরফের মতো হও, নিজেকে দিয়ে নিজেকে ধুইয়ে দাও।
17. একটি চেতনাপ্রাপ্ত শুদ্ধ মন জাগ্রত রূহ্ হাজার কাবা থেকে শ্রেষ্ঠতর।
18. এটা তোমার আলোই, তোমার আলোই এই জগতকে আলোকিত করে।
19. যে হৃদয় ভরপুর প্রেমের আগুনে তার প্রত্যেক কথাই হৃদয়ে ঝড় তোলে।
20. নতুন কিছু তৈরি করো, নতুন কিছু বলো। তাহলে পৃথিবীটাও হবে নতুন।
21. এতদূর তোমাকে নিয়ে এসেছেন যিনি আরও সামনে নিয়ে যাবেন তিনিই।
22. সিংহকে তখনই সুদর্শন দেখায় যখন সে খাবারের খোঁজে শিকারে বেরোয়।
23. তুমি সাগরে এক বিন্দু পানি নও। তুমি এক বিন্দু পানিতে গোটা এক সাগর।
24. প্রদীপ হও, কিংবা জীবনতরী, অথবা সিঁড়ি। কারো ক্ষত পূরণে সাহায্য করো।
25. যে মুর্শিদকে খোদারূপে দেখে নাই সে মুরিদ নয়, সে মুরিদ নয়, সে মুরিদ নয়।
26. প্রতিটি মানুষ ভেতর থেকে ঠিক সেই কাজটি করার জন্যই তাড়না অনুভব করে।
27. তোমার হৃদয়টাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ভাঙ্গতে থাকো যতক্ষণ পর্যন্ত তা না খুলে যায়।
28. শোক করো না। তুমি যাই হারাও না কেনো তা অন্য কোনো রূপে ফিরে আসবে।
29. তুমি কি তোমার আত্মার? তবে তোমার মনের খাঁচা (আমিত্ব) থেকে অবমুক্ত হও।
30. হতাশ হয়ো না! তীব্র হতাশার মূহুর্তগুলোতেই আল্লাহ আশার আলো পাঠিয়ে দেন।
31. তোমার ক্ষুদ্র জগৎ থেকে বের হয়ে আসো এবং স্রষ্টার অসীম জগতে প্রবেশ করো!
32. সৃষ্টিকর্তার প্রেমে আপন আত্মা খুইয়ে দাও, বিশ্বাস কর; এ ব্যতীত কোন পথ নেই।
33. শেখার জন্য তুমি পড়াশোনা করো, কিন্তু বুঝতে হলে তোমার প্রয়োজন ভালোবাসা।
34. মোমবাতি হওয়া সহজ কাজ নয়। আলো দেওয়ার জন্য প্রথম নিজেকেই পুড়তে হয়।
35. তোমার হৃদয়ে যদি আলো থাকে, তাহলে ঘরে ফেরার পথ তুমি অবশ্যই খুঁজে পাবে।
36. কেউ যখন কম্বলকে পেটাতে থাকে তখন সেটা কম্বলের বিরুদ্ধে নয়, ধুলোর বিরুদ্ধে।
37. যেই অনুপ্রেরণা তুমি খুঁজে চলেছ, সে তোমার মাঝেই বিদ্যমান, নিশ্চুপ হও আর শোনো।
38. তোমার হৃদয়ে আগে মধুরতা খোঁজ করো, তাহলে সব হৃদয়েই তুমি মধুরতা খুঁজে পাবে।
39. পীরের হাত অদৃশ্য জগৎ হতে দূরে নয়। তার হাত আল্লাহর হাত ব্যতীত আর কিছুই না।
40. তোমার অন্তরের চোঁখ খোল, চেয়ে দেখ এই দুনিয়া একটা মায়া স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না।
41. যখন আমি নিরব হই তখন আমি এমন স্থানে পৌঁছাই যে সেখানকার সকল কিছুই সঙ্গীত।
42. তুমি স্রষ্টার প্রেমে পাগল হয়ে যাও, সমস্ত সৃষ্টি তোমার সেবা করার জন্য পাগল হয়ে যাবে।
43. আমাদের চারপাশেই সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু এটা বুঝতে হলে বাগানে হাঁটতে হবে।
44. সারাজীবন একই ভুল করলাম। নিজের চেহারার ধুলা না মুছে কেবল আয়না মুছে গেলাম।
45. শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করো, কণ্ঠ উঁচু করে নয়। মনে রাখবে ফুল ফোটে যত্নে বজ্রপাতে নয়।
46. অন্যের জীবনের গল্প শুনে সন্তুষ্ট হয়ো না, নিজের পথ তৈরি করো, নিজের জীবন সাজাও।
47. আজন্ম সমুদ্রের লোনাজল পানকারীর কাছে সুপেয় মিঠা পানি পানের মজা বোঝানো দুষ্কর।
48. যে তোমাকে সত্যিই মন দিয়ে ভালোবাসবে সে তোমাকে সব রকম বন্ধন থেকে মুক্ত রাখবে।
49. আপন অন্তর আত্মার সাথে পরিচিত হবার ক্ষুধা অন্য সকল কামনা আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষান্ত করবে।
50. তোমার মুর্শীদকে তোমার কালবে বসাও দেখবে তুমি, ঐশ্বরিক আলোতে আলোকিত হয়েছ।
51. তুমি জন্মেছিলো দু’টি ডানা নিয়ে। কেন তবে জীবনভর হামাগুড়ি দিতেই তোমার এত পছন্দ”
52. ভালোবাসার জগতের পথিক হতে চাও? তবে নিজেকে ধুলো-ছাইয়ের মত নমনীয় করে ফেলো।
53. যে বাতাস গাছ উপড়ে ফেলে সেই বাতাসেই ঘাসেরা দোলে। বড় হওয়ার দম্ভু কখনও করো না।
54. তোমার জন্ম হয়েছে পাখা নিয়ে উড়ার ক্ষমতা তোমার আছে। তারপরও খোঁড়া হয়ে আছো কেন?
55. কখনো আশা হারিয়ো না, হে আমার হৃদয়। অদেখার জগতে তো অনেক অলৌকিক ঘটনার বসবাস।
56. প্রতিটি মানুষকে একটা নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেই কাজটি তার হৃদয়ে গ্রন্থিত আছে।
57. তুমি ঘুমন্ত অথবা জাগ্রত, লেখো কিংবা পড়, যাই করো না কেনো, এক মুহূর্তও খোদাকে স্মরণ না করে থেকে না।
58. আমি কুরআনের মগজ (মূলবস্তু) তুলে নিয়েছি, আর অস্থিচর্ম শৃগাল-কুকুররের জন্য রেখে দিয়েছি।
59. তোমার সব চাইতে বড় শত্রু তোমার নিজের ভেতরই লুকিয়ে আছে সে হচ্ছে তোমার মিথ্যা অহং।
60. যে অনুপ্রেরণা তুমি বাইরে খুঁজছো, তা তোমার নিজের ভেতরেই আছে। নীরব হও এবং তা শোন।
61. দুই ব্যক্তি কখনও সন্তুষ্ট নয়- বিশ্বকে যে ঘুরে দেখতে চায় আর যে আরও জ্ঞান আহরণ করতে চায়।
62. তোমার নিজের হৃদয়ের মাধুর্য খুঁজে বের করো, তখন সম্ভবত সবার হৃদয়ের মাধুর্য তুমি খুঁজে পাবে।
63. সুন্দর ও উত্তম দিন তোমার কাছে আসবে না; বরং তোমারই এমন দিনের প্রতি অগ্রসর হওয়া উচিত।
64. সব কিছু জেনে ফেলাই জ্ঞান নয়, জ্ঞান হলো কী কী এড়িয়ে যেতে হবে বা বর্জন করতে হবে তা জানা।
65. যা কিছু হারিয়েছো তার জন্য দুঃখ করো না। তুমি তা আবার ফিরে পাবে, আরেকভাবে আরেক রূপে।
66. প্রেম কোন ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে না, প্রেম অসীম সাগরের মত, যার কোন প্রারম্ভ বা সমাপ্তি নেই।
67. যখন তুমি ক্রোধের অবয়ব দেখতে পাও, তার গভীরে লক্ষ্য কর, সেথা তুমি দম্ভের অবয়ব দেখতে পাবে।
68. যদি তুমি আধ্যাত্মিক জগতের কাউকে পাও তবে বিনয়ের সাথে কথা বলো এবং কিছু শেখার আগ্রহী হও।
69. আমরা তো সেই লোকটির মতো। যে গাধার পিঠে বসে গাধার কাছেই জানতে চায় যে কোথায় যেতে হবে!!!
70. আত্মাকে শোনার ক্ষমতা দিয়ে যে কান দান করা হয়েছে তা এমন কিছু শুনতে পায় মন যা বুঝতেও পারে না।
71. সুফিগণ প্রেমিক, ধৈর্যই তাঁদের পোষাক। তাঁরা জানেন যে, পূর্ণিমার আলো দিতে চাঁদকে পূর্ণ হতে সময় লাগে।
72. আমি অনেক মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ঘুরেছি কিন্তু পরম সত্ত্বাকে কেবল নিজের মধ্যেই অনুধাবন করতে পেরেছি।
73. এমনকি বসন্তে অস্তিত্ব লাভ করা বস্তুও শরতের শেষে এসে ক্ষয়ে যায়, কিন্তু প্রেম! সে তো কোন নির্দিষ্ট মৌসুমের নয়।
74. সুঁচে গাঁথিবার সুতা কখনও দু’পাল্লা হয় না, তুমি যখন আমার সাথে এক হইয়া গিয়াছ তখন এক সুঁচে প্রবেশ কর।
75. তুমি যত বেশি নিশ্চুপ থাকবে, তত বেশি শুনতে পাবে। তোমার চোখের পাতা তোমার হৃদয় থেকে কবিতা লিখবে।
76. যেদিন তোমার প্রেম আমায় স্পর্শ করব সেদিন আমি এতোটাই উন্মাদ হবো যে, সকল উন্মাদ ও আমা হতে পালাবে।
77. যে তার জ্ঞান দিয়ে মনের খারাপ ইচ্ছাগুলোকে জয় করতে পারে, সে স্বর্গের ফেরেশতাদের থেকেও বেশি সম্মানিত।
78. তোমার কাছে যা-ই আসুক না কেন তুমি কৃতজ্ঞ থেকো, কেননা তোমার কাছে যা পাঠানো হয় তা তার পক্ষ থেকে পথনির্দেশ।
79. হে প্রিয় বৎস! তোমার উপর যদি মুর্শিদের ছায়া না থাকে, তবে শয়তানের ওয়াসওয়াসাহ তোমাকে সর্বদা অস্থির করে রাখবে।
80. তুমি তাদের এড়িয়ে যাও যারা তোমাকে ভীত সন্ত্রস্ত ও দুঃখিত করে, যারা তোমায় রোগ ও মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে ফেলবে।
81. আউলিয়াগণ (হৃদয়) মসজিদের ভিতরেই (অবস্থান করে) থাকেন উহাই আল্লাহ লাভের জন্য, সকলের (কাবা) সেজদার স্থান।
82. দুনিয়াবি সাধারণ দরজায় কষাঘাত করো না, তোমার হাত এতটাই প্রসস্থ যে, ইচ্ছে করলেই তুমি বেহেস্তী দরজার কড়া নাড়তে পার।
83. দিপ্তীমান মোমবাতির মত হওয়া মোটেও সহজ নয়! অন্যকে আলোকিত করতে চাইলে সর্বপ্রথম নিজেকে আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হতে হয়।
84. এই পথটা তোমার, তুমি পথ চলো একা। তোমার চলার পথে হয়ত কেউ সঙ্গী হবে। কিন্তু তোমার পথটা অন্য কেউ হেঁটে দিবে না।
85. গতকাল আমি বুদ্ধিমান ছিলাম, তাই পৃথিবীটাকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি জ্ঞানী, তাই নিজেকে বদলে ফেলতে চাই।
86. তোমাকে ঘিরে থাকা কালো মেঘ থেকে নিষ্কৃতি লাভ করো! এরপর দেখবে তোমার নিজের আলো পূর্ণিমার চাঁদের মতই উজ্জ্বল!
87. যদি কামেল লোকের সোহবত ক্ষণিকের জন্যেও পাও, তাহা গ্রহণ করো। জেনে রেখো, তাহা হাজার বছরের ফকিরি হতেও উত্তম।
88. যখনই নিজের স্বার্থপর সত্ত্বার উপর বিজয় অর্জন করতে পারবে, ঠিক তখনই মনের সমস্ত অন্ধকার আলোতে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।
89. তোমার দু’টো চোখকেই বন্ধ করে দাও। যদি অন্য চোখটি দিয়ে দেখতে চাও। তুমি যত বেশি নিশ্চুপ থাকবে, তত বেশি শুনতে পাবে।
90. মানুষ যতক্ষণ অন্যায় অসত্যের বন্ধনে থাকে ততক্ষণই অদৃশ্য খোদার এবাদত করে এবং নবী ও রাসুলগণের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
91. আমাকে দেখতে অস্থির মনে হতে পারে, কিন্তু আমার গভীরে আমি শান্ত ও স্থির। গাছের শাখারা দুলতে থাকে কিন্তু তার শেকড় থাকে দৃঢ়।
92. অনেক মানুষ দেখেছি যাদের জড়িয়ে রাখার মতন কোন কাপড় ছিল না, অনেক কাপড় দেখেছি যা যাদের জড়িয়ে রেখেছিলো তারা মানুষ ছিল না।
93. নিরবতা হলো মহাসাগর। কথা হলো নদী। যখন মহাসাগর তোমাকে খুঁজছে তখন নদীর মাঝে হেঁটোনা। মহাসাগরের ডাকে সাড়া দাও।
94. দুনিয়াদারীর কথাবার্তা ধুলাবালির ন্যায় মানুষের হৃদয়কে ময়লা করে দেয়। যে যত বেশি চুপ থাকবে, তার আধ্যাত্মিক উন্নতি তত বেশি হবে।
95. তোমার কিছু চিন্তাকে ঘুম পাড়াও ওদের ছায়া হতে দিও না, তোমার অন্তরের চাঁদটাকে ঢেকে ফেলে যে ছায়া। ছায়ারূপী ভাবনায় নিমগ্ন থেকো না।
96. আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি কে?’ সে বলল, সমস্ত কিছুর নকশা, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে আমি কে?’ সে বলল, সেই নকশার ইচ্ছাই হচ্ছো তুমি।
97. নবী মোস্তফা(স) হচ্ছেন আল্লাহর নূরানী-তাজাল্লী দর্শনের আয়না স্বরূপ। ঐ আয়নাতেই আল্লাহ্’র পবিত্র জাতের সব কিছু প্রতিবিম্বিত ও প্রতিফলিত হয়।
98. তরীকতের পথে পরিপক্ব না হওয়া পর্যন্ত মুর্শিদের সম্পর্ক ত্যাগ করিও না। যতক্ষণ পর্যন্ত বারি বিন্দু হইতে মুক্তা না উৎপন্ন হইবে, ঝিনুক হইতে পৃথক হইও না।
99. অন্যদের জীবনের ঘটনাগুলো কেমন করে ঘটেছে, অন্যদের গল্প শুনে সন্তুষ্ট হয়ে যেয়ো না। নিজ জীবনের লুকিয়ে থাকা কল্পকাহিনীর পর্দা উন্মোচিত করো।
100. অর্ধেকটা জীবন হারিয়ে যায় অন্যদের খুশি করতে গিয়ে! বাকি অর্ধেকটা হারায় অন্যদের কারণে তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তা ও উৎকন্ঠায়! এই খেলা ছাড়ো, যথেষ্ট খেলেছো তুমি।
101. তুমি ভালোবাসা খুঁজতে যেয়ো না, ও তোমার কাজ নয়। বরং খেয়াল করে দেখো তোমার ভিতরে কী কী প্রাচীর তুমি গড়ে তুলেছ যা তোমাকে ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করছে।
102. সমস্ত উদ্বেগ মুছে ফেলে একদম মুক্ত হয়ে যাও, চিন্তা করো তার কথা যিনি সকল চিন্তাকে সৃষ্টি করেছেন। যখন সমস্ত দ্বার এখনো এত অবারিত কেন তুমি তবু বন্দীশালাতেই বাস করো?
103. হতাশ হয়ো না! কেননা সবচেয়ে তীব্র হতাশার
মূহুর্তগুলোতে আল্লাহ আশার আলো পাঠিয়ে দেন। ভুলে যেয়ো না, চারপাশ আঁধার করে আসা ঘনকালো মেঘ থেকেই তুমুল বৃষ্টিটা হয়ে থাকে।
104. মানুষ হচ্ছে কথা বলার প্রাণী। তোমার ভিতরের প্রাণীটি যেমন সবসময় তোমার সাথে থাকে, তেমনি কথাও সারাক্ষণ সেখানে থাকে। মানুষ তিনটি আধ্যাত্মিক পর্যায়ের মধ্যে বাস করে!!!
105. এখন তুমি চুপ করে থাকো! ভেতরে যে কথা বলতে চায়, তাকে কথা বলতে দাও। তিনি দরজা সৃষ্টি করেছেন, দরজার তালাও তৈরি করেছেন এবং এটা খোলার চাবিও তিনিই তৈরি করেছেন।
106. তুমি যদি আমার মাজার জিয়ারতে আস, আমি হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, নাচতে থেকো, ঢোল ছাড়া আমার মাজারে এসোনা, কেননা আল্লাহ্’র ভোজ সভায় নিরানন্দ শোভা পায় না।
107. তুমি এখন চুপ করো। যিনি পৃথিবীর সকল শব্দগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তাকেই কথা বলতে দাও। তিনিই দরজা সৃষ্টি করেছেন, তিনি তালা সৃষ্টি করেছেন এবং তার চাবিও তিনিই সৃষ্টি করেছেন।
108. যদি তুমি চাঁদের প্রত্যাশা কর, তবে রাত থেকে লুকিয়োনা। যদি তুমি একটি গোলাপ আশা কর তবে তার কাঁটা থেকে পালিয়োনা, যদি তুমি প্রেমের প্রত্যাশা করো, তবে আপন সত্তা থেকে হারিওনা।
109. ভক্তি ও মোহব্বতের সাথে একজন কামেল গুরুর হৃদয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারলে, হজ্জে আকবরের সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ, হাজার হাজার কাবার চাইতে এরূপ একটি হৃদয় শ্রেষ্ঠ।
110. যে পর্যন্ত তুমি কোন পীরের শরণাপন্ন না হবে। তাঁর গৃহের চৌকাঠকে নিজের বালিশ না বানাবে এবং তাঁর নির্দেশ অনুসারে কঠোর সাধনায় লিপ্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি অন্তর দৃষ্টি লাভ করতে পারবে না।
111. কড়া নাড়ো, তিনি তোমায় দরজা খুলে দেবেন বিলীন হয়ে যাও, তিনি তোমায় সূর্যের মত উজ্জ্বল করবেন লুটিয়ে পড়ো, তিনি তোমায় বেহেশতে তুলে নেবেন নিজেকে রিক্ত করো, তিনি তোমায় সবকিছু দিয়ে পূর্ণ করবেন।
112. পেছন ফিরে দেখিয়ো না। কেউ জানে না ঠিক কেমন অবস্থায় পৃথিবী শুরু হয়েছিলো। ভবিষ্যত নিয়ে ভয় করো না, কোনকিছুই চিরকাল থাকবে না। তুমি যদি অতীত আর ভবিষ্যতেই ডুবে থাকো, তুমি বর্তমানকে হারিয়ে ফেলবে।
113. স্বর্ণ ও রৌপ্য এমন কী বস্তু যার জন্য তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছো? এই দুনিয়া এমন কী জিনিস যার জন্য তুমি মজনু হয়ে যাও? তোমার এ ঘর-বাড়ি, বাগবাগিচা এ সবই তোমার কারাগার। তুমি সাময়িক এসবের মহব্বতে আবদ্ধ আছ মাত্র!
114. যখন অন্যকে অনুকরণ করলাম, তখন আমি অন্ধ ছিলাম। যখন অন্যের ডাকে সারা দিয়ে এলাম, তখন আমি পথভ্রষ্ট ছিলাম। এরপর আমি সবাইকে বিসর্জন দিলাম, নিজেকেসহ। এরপর আমি সবাইকে খুঁজে পেলাম, নিজেকেসহ।
115. তুমি যদি মারেফাতের নূর চাও, তবে মুর্শিদে কামেলের সাহচার্যে থাকিয়া নূরের প্রতিভা ও যোগ্যতা অর্জন কর। আর যদি আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকিতে চাও, তবে অহংকার ও খোদপছন্দী কর এবং অলীর দরবার থেকে দূর হয়ে যাও।
116. সঙ্গীত হল সকল প্রকার ভালবাসার মূল উপাদান। এটাকে অন্তরে তুলে নাও, তাহলে মনের বিশাল রাজ্যের ধুলিকনাগুলো চমকাতে শুরু করবে। সুপ্ত প্রতিভা জেগে উঠবে। সঙ্গীত শোনো, তাহলে মনে আনন্দ ও স্বর্গীয় প্রশান্তি লাভ করতে পারবে।
117. প্রথম পর্যায়ে আমরা আল্লাহর প্রতি কোন মনোযোগ দেই না। আমরা শুধু পৃথিবীর আবর্জনা, সম্পদ, শিশু, পুরুষ ও নারীকে লক্ষ্য করি!!! দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা ইবাদত ছাড়া আর কিছু করি না। তৃতীয় এবং সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়ে আমরা নিরব হয়ে যাই৷৷৷
118. সূর্যের মতন হও মানুষকে অনুগ্রহ ও দয়া করায়। রাতের মতন হও অন্যদের ভুলগুলো ঢেকে দেয়ায়। বয়ে চলা স্রোতধারার মতন হও উদারতায়। মৃত্যুর মতন হয়ে যাও রাগ ও ক্ষুব্ধতায়, মাটির মতন হও বিনম্রতায়, তুমি যেমন তেমন করেই নিজেকে প্রকাশ করো। যেমন করে নিজেকে প্রকাশ করো, তেমনটিই হও।
119. আমার হৃদয়ের আকার তো ক্ষুদ্র, এতটাই ছোট যে তা প্রায় দেখাই যায় না। এত বিশাল পরিমাণ দুঃখ বেদনা আমি কীভাবে ধারণ করবো এতে? তিনি উত্তর দিলেন, “খেয়াল করে দেখো, তোমার চোখটাও তো অনেক ক্ষুদ্র। কিন্তু এই চোখে তো তুমি গোটা বিশ্বজগতকেই ধারণ করো।”
120. আমি বললাম: আমার চোখ দুটোর কী হবে?
তিনি বললেন: পথের উপর তাদের স্থির রাখো।
আমি বললাম: আমার কামনার কী হবে?
তিনি বললেন: ওদের পুড়তে দাও।
আমি বললাম: আমার হৃদয়ের ব্যাপারে বলুন?
তিনি বললেন: এর মাঝে কী আছে তা আমাকে
বলো।
আমি বললাম: কষ্ট আর ব্যথা।
তিনি বললেন: এগুলো থাকুক তোমার হৃদয়েই।
ক্ষতগুলো তো এমনই স্থান যার ভেতর দিয়ে তোমার
মাঝে আলো প্রবেশ করে।
121. বিদায় শব্দটা তাদের জন্য খাটে যারা কেবল চোখ দিয়ে মানুষকে ভালবাসে। কিন্তু যারা অন্তর বা আত্মা দিয়ে মানুষকে ভালবাসে তাদের বেলায় বিদায় বলে কোন শব্দ নেই।
122. হে পাপী নিরাশ হয়ো না। কেননা, সূর্যদয় হলে উহার কিরণ যেমন বাদশাহর প্রাসাদে পরে, তেমনি গরীবের জীর্ণ কুটিরকেও আলোকিত করে।
#Rumi #JalaluddinRumi #RumiQuotes
#AmritSayings #SufiSayings